ফুটানিগঞ্জের মহেশ ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত বাংলা চলচ্চিত্র, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন লোকনাথ দে ও খরাজ মুখোপাধ্যায়। পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর ছোটগল্প ‘মহেশ’-কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সমকালীন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছেন। সাহিত্য, থিয়েটার এবং মানবিক আবেগের অনন্য সমন্বয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
গল্পের সারসংক্ষেপ
শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পে যে অবহেলা, দারিদ্র্য এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছিল, সেই আবেগকে নতুনভাবে জীবন্ত করেছে ফুটানিগঞ্জের মহেশ। এখানে যেন অতীতের মহেশ নতুন জন্ম নিয়ে ফিরে এসেছে এক ভিন্ন সময় ও ভিন্ন বাস্তবতায়।
চিত্রনাট্যকার অর্কদীপ মল্লিকা নাথ প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের জীবনসংগ্রামকে শরৎচন্দ্রের গল্পের সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ফলে সিনেমাটি শুধুমাত্র একটি সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নয়, বরং নাট্যচর্চা, শিল্পীর সংগ্রাম এবং সমাজ-রাজনীতির সংঘাতের এক শক্তিশালী দলিল।
থিয়েটার থেকে সিনেমা—এক শিল্পীর লড়াই
১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর দশকে বাংলা নাট্যজগতের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে চলচ্চিত্রের মূল কাহিনি। লোকনাথ দে অভিনীত চন্দ্রমাধব চরিত্রটি একজন নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী, যিনি রাজনৈতিক চাপে নিজের নাট্যচর্চা হারাতে বসেন।
একসময়ের ছাত্র এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ অমর্ত্য ঘোষ-এর সঙ্গে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পর চন্দ্রমাধব সিদ্ধান্ত নেন, তিনি একটি সিনেমা নির্মাণ করবেন। এরপর শুরু হয় তাঁর স্বপ্নপূরণের কঠিন যাত্রা।
‘মহেশ’ চরিত্রের খোঁজে
চলচ্চিত্রের সব চরিত্রের শিল্পী খুঁজে পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ‘মহেশ’ চরিত্রের জন্য উপযুক্ত ষাঁড় নির্বাচন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর একটি ষাঁড় চন্দ্রমাধবের পছন্দ হয়। পরে জানা যায়, ষাঁড়টির নাম গফুর—যা শরৎচন্দ্রের মূল গল্পের স্মৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে।
কিন্তু মালিক ষাঁড়টি দিতে অস্বীকৃতি জানালে চন্দ্রমাধব বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে সেটিকে নিয়ে আসেন। এই ঘটনাই সিনেমায় তৈরি করে নাটকীয় মোড় এবং আবেগঘন সংঘাত।
ফুটানিগঞ্জের মহেশ (২০২৬) শুধুমাত্র একটি সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়; এটি একজন শিল্পীর স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার গল্প। শরৎচন্দ্রের কালজয়ী সৃষ্টি থেকে অনুপ্রাণিত হলেও সিনেমাটি নিজস্ব পরিচয়ে সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রে একটি শক্তিশালী সংযোজন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
📥 Download Now



0 Comments